মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ ২০২৩, ০৮:১১ পূর্বাহ্ন

হাতি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বন বিভাগের কর্মীরা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ৪১ বার পঠিত

মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রমের সময় স্থলমাইন বিস্ফোরণে পায়ে গুরুতর আঘাত পাওয়া একটি বুনো হাতি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের কর্মীরা। গতকাল শনিবার বিকেল থেকে নানা চেষ্টা করেও হাতির চিকিৎসা দেওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে হাতিটি রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের লম্বাশিয়া পাহাড়ের গহিন অরণ্যে অবস্থান করছে। আহত হাতির চারপাশে অবস্থান নিয়েছে আরও পাঁচ-ছয়টি হাতি। মানুষ দেখলে তেড়ে আসে হাতির দল। এ কারণে বনকর্মীরা আহত হাতির ধারেকাছেও ভিড়তে পারছেন না।

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. আনোয়ার হোসেন সরকার প্রথম আলোকে বলেন, মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশের সময় সম্ভবত শূন্যরেখার কাছে স্থলমাইন বিস্ফোরণে হাতিটির সামনের ডান পায়ের গোড়ালি উড়ে গেছে। গতকাল সন্ধ্যার আগে ভেটেরিনারি সার্জন ও বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আহত হাতির শরীরের ইনজেকশন পুশ করতে পারেননি। অন্তত ৫০০ গজ দূর থেকে দাঁড়িয়ে বনকর্মীরা হাতির পায়ে ক্ষত চিহ্নটি দেখতে পেয়েছেন। কিন্তু হাতির আরও কাছাকাছি যাওয়া যাচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ

বিশ্বব্যাংক থেকে ২৫ কোটি ডলার ঋণ পেলো বাংলাদেশরামুর বাঁকখালী বনের রেঞ্জ কর্মকর্তা সরওয়ার জাহান প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে বনকর্মীরা লম্বাশিয়া পাহাড়ের গহিন জঙ্গলে আহত বুনো হাতিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। রামুর গর্জনিয়া বাজার থেকে হাইস্কুল সড়ক দিয়ে লম্বাশিয়ার ওই পাহাড়ে যেতে হয়। বিকেল চারটার দিকে চকরিয়া ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন হাতেম সাজ্জাত জুলকার নাইনের নেতৃত্বে বন বিভাগ ও সাফারি পার্কের যৌথ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত হাতিকে ৫০০ গজ দূর থেকে ট্রাই-এঙ্গোলার দিয়ে ব্যথা কমানোর ওষুধ দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু সফল হতে পারেননি। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসায় চিকিৎসক দলের সদস্যরা নিরাপদ স্থানে ফিরে আসেন। আজ রোববার সকালে বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন।

বনকর্মীরা বলেন, আহত হাতিটি লম্বাশিয়া বনের ভেতরেই আছে। হাতির দাঁত আছে দুটো। অপর কয়েকটি হাতি ধাক্কা দিয়ে আহত হাতিটিকে গহিন জঙ্গলে দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু আহত হাতিটি ঠিকমতো হাঁটতে পারছে না।

স্থানীয় বন কর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা বলেন, মাঝেমধ্যে বুনো হাতির পাল শূন্যরেখার সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমারের জঙ্গলে চলে যায়। আবার ফিরেও আসে। বহু আগে থেকেই সীমান্তে স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী ও দেশটির স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী। গত চার মাসে স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিন ব্যক্তি নিহত ও চারজন পা হারিয়েছেন। হতাহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি, অন্যরা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা। এর আগে স্থলমাইন বিস্ফোরণে হাতির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছিল।
আরও পড়ুনঃ তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স নভেম্বরে

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..